নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের আলোচিত অপরাধ জগত, আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বারবার উঠে আসা ‘বড় সাজ্জাদ’-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ডেভিড ইমনকে ঘিরে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তার একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপে ডেভিড ইমন নামে পরিচিত এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “পুরো শরীরে এমনভাবে গুলি করা হবে যে পরিবারও গুণতে পারবে না।” অডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সাংবাদিক মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এ ঘটনার পর সাংবাদিক বিপ্লব দে’র পক্ষ থেকে কোতোয়ালী থানা-এ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি পরবর্তীতে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ঘটনাটি আরও ব্যাপক আলোচনায় চলে আসে।
তবে অভিযোগের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত আইডি থেকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন ডেভিড ইমন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ভাইরাল হওয়া অডিওতে যে বক্তব্য শোনা গেছে, সেটি আংশিক সত্য হলেও তার বিরুদ্ধে আনা ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ “সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”।
ফেসবুক পোস্টে ডেভিড ইমন উল্লেখ করেন, সাংবাদিক বিপ্লব দে’র সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। বিভিন্ন সময় সংবাদসংক্রান্ত প্রয়োজনে তিনি তাকে আর্থিক সহায়তাও দিয়েছেন বলে দাবি করেন। হঠাৎ এমন অভিযোগ সামনে আসায় তিনি নিজেও বিস্মিত হয়েছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন।
ডেভিড ইমনের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওটি প্রকৃত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ অংশ নয়। বরং বিভিন্ন সময়ের কথোপকথন কেটে, সম্পাদনা করে ও জোড়াতালি দিয়ে সেটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার ভাষ্য, “পুরো শরীরে এমনভাবে গুলি করা হবে, পরিবারও গুণতে পারবে না”এই বক্তব্য তিনি দিয়েছেন ঠিকই, তবে সেটি কোন প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “একবারের জন্যও কি প্রমাণ করতে পারবেন আমি ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছি?” একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিক বিপ্লব দে’র বিরুদ্ধে পাল্টা নানা অভিযোগও আনেন। তার দাবি, বিপ্লব দে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং ইয়াবা কারবারসহ একাধিক বিতর্কিত ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে ডেভিড ইমন কোনো তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ করেননি।
অন্যদিকে সাংবাদিক মহলের একাংশ বলছেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি আইনগতভাবে মোকাবিলা করা উচিত। হুমকি, ভয়ভীতি কিংবা সহিংস ভাষা ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ভাইরাল হওয়া অডিওর সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং অভিযোগের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অডিও, ভিডিও ও অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার কিংবা আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
সব মিলিয়ে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে ঘিরে ডেভিড ইমনকে নিয়ে নতুন করে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা এখন চট্টগ্রামের অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার।

