আইবিএন নিউজ ডেস্ক: ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে খিলগাঁও থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার প্রতিটি অলি-গলিতে কিশোর গ্যাং ও অস্ত্রবাজদের মহড়া চলছে। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়মিত আড্ডা চোখে পড়ছে। থানায় একাধিকবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রশিদ হাবিব বারবার এসব অপরাধী চক্র নির্মূলের কথা বললেও প্রশাসন তা আমলে নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ীদের একটি সূত্র দাবি করেছে, তারা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরকে টাকার বিনিময়ে ‘হাত করে’ রেখেছে। যারা অভিযোগ করবে, তাদের নাম-ঠিকানা দিলে তারাই ব্যবস্থা নেবে বলে হুমকি দেয়া হয়েছে।
খিলগাঁও থানার এক সৎ পুলিশ কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) আইবিএন নিউজকে বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই সব ফাঁস করে দেয়। আমরা মাঠপর্যায়ের কর্মীরা ছোটখাটো, তাদের হুকুমের গোলাম। বড় বড় অফিসাররাই মাসিক মাসোয়ারার বিনিময়ে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত। এ কারণে ভুক্তভোগীদের কোনো সুরাহা হয় না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই ডিবি ও র্যাব কঠোর ভূমিকা পালন করুক। তারাই এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে।”
গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে খিলগাঁও থানাধীন আদর্শবাগ, রজনীগন্ধা রোডে খিলগাঁও প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাপস নিউজ প্রতিনিধি ও সাংবাদিক পাপ্পু চৌধুরীর উপর কিশোর গ্যাংয়ের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ হামলা চালায়। থানায় একাধিকবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকাবাসীরা প্রশ্ন তুলেছেন, ত্রিপল নাইনে ফোন করলে পুলিশ তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়, কিন্তু সরাসরি থানায় অভিযোগ করলে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না কেন?
সাংবাদিক পাপ্পু চৌধুরীর দায়ের করা দুটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) এখনো আইনি টেবিলে পড়ে আছে। কোনো সুরাহা না হওয়ায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত আরও বেড়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, পয়সার লোভে কিছু পুলিশ কর্মকর্তা ফরিয়াদিদের নাম-ঠিকানা অপরাধীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘুষখোর কর্মকর্তাদের সরিয়ে ধার্মিক ও সৎ পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া জরুরি।
তারা আরও জানিয়েছেন, আগামীতে খিলগাঁও থানা এলাকার বিভিন্ন কিশোর গ্যাং গ্রুপ ও অস্ত্রবাজ সন্ত্রাসীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

