নিজস্ব সংবাদদাতা: আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম জেলার সড়ক, মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশে কোনোভাবেই পশুর হাট বসানো যাবে না বলে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান জোরদার, ফেরিঘাটে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
রবিবার (১০ মে) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, “রাস্তা, মহাসড়ক কিংবা রেললাইনের পাশে কোনো অবস্থাতেই গরুর হাট বসানো যাবে না। যানজট ও জনদুর্ভোগ এড়াতে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে। বিশেষ করে কর্ণফুলী এলাকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জায়গাসহ গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থানে পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না।”
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ডিসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যাবে না। সন্ত্রাস, অস্ত্রের মহড়া, চাঁদাবাজি ও মাদককারবার কঠোর হাতে দমন করতে হবে।” তিনি অবিলম্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের ঘোষণা দেন।
নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে তিনি ফেরি পারাপারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানান, কুমিরা-গুপ্তছড়া ও সন্দ্বীপ রুটসহ সব ফেরিঘাটে বাস বা ট্রাক ওঠার আগে যাত্রীদের নামিয়ে নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় দ্রব্যমূল্য নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “উন্নত বিশ্বের মতো উৎসবের সময় পণ্যের দাম কমানোর সংস্কৃতি চালু করা প্রয়োজন। ঈদকে কেন্দ্র করে অহেতুক দাম বাড়ানোর প্রবণতা থেকে ব্যবসায়ীদের বেরিয়ে আসতে হবে।”
সভায় চট্টগ্রাম জেলার গত মাসের অপরাধচিত্র পর্যালোচনা করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না বলে সভায় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নুরুল আমিন, হুমাম কাদের চৌধুরী, এরশাদ উল্লাহ, মোহাম্মদ এনামুল হক, শাহজাহান চৌধুরী, মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামসহ জেলা পুলিশ, সিএমপি, নৌবাহিনী, এনএসআই ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

