নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার ৩ নম্বর ঘাঘড়া ইউনিয়নের সানকিডোয়ারী গ্রামে ২২ এপ্রিল ২০০৬ সালে সংঘটিত এক গুরুতর কুপিয়ে জখমের ঘটনায় দণ্ডিত আসামির পরিবার ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে বারবার মিথ্যা মামলা দায়ের ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার দিন ভুক্তভোগী মীর্জা ইশতিয়াক আহসান ওরফে মুকুল (৩৫) খালার বাড়িতে বেড়াতে গেলে দুপুরের খাবারের সময় তার খালাতো ভাই আবু বকর সিদ্দিক ওরফে নেকবর খাঁ (৪৬) পূর্বপরিকল্পিতভাবে রান্নাঘরের দা দিয়ে তাকে উপর্যুপরি কুপাতে থাকেন। ফেরাতে গিয়ে নেকবর খাঁর মা উম্মে কুলসুম (ভুক্তভোগীর খালা) নিজের ছেলের দায়ের কোপে হাতের কব্জি কেটে মাটিতে পড়ে যান। চিৎকারে আশপাশের লোকজন উদ্ধার করলেও আসামি পালিয়ে যান। পরে এলাকাবাসী তাকে পাশের জঙ্গলে লুকিয়ে থাকার অবস্থায় ধরে স্থানীয় পুলিশের হাতে তুলে দেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর ভুক্তভোগী মুকুল ও তার খালা কোনোভাবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও উম্মে কুলসুম হাতের কব্জি হারান। মুকুলের মাথায় গভীর ক্ষতসহ ৫২টি সেলাই, ডান কাঁধের হাড় কাটা, গলায় বড় ক্ষত, হাতের আঙুল ও তালু কাটাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মোট ১৫২টি সেলাই নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আসামির বাবা মো. মিয়া হোসেন খাঁ ভুক্তভোগী মুকুলের বিরুদ্ধে পূর্বধলা আমলি আদালতে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা (সিআর মো. নং ৩২(১)২০২১, ধারা ৩৪১/৩৮৫/৫০০/৫০৬) দায়ের করেন। তদন্তে সত্যতা না পেয়ে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।
ভুক্তভোগীর মামলায় সাক্ষ্য ও তদন্তে সত্যতা নিশ্চিত হয়ে বিজ্ঞ আদালত গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ আসামি নেকবর খাঁকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা (অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড) প্রদান করেন।
সাজা হওয়ার পর ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আসামির ভাই ঈশা খাঁ (৪৪) পূর্বধলা আমলি আদালতে আরেকটি মিথ্যা মামলা (সিআর ৪১০/১/২০২৬) রুজু করেন। এতে দাবি করা হয়, ভুক্তভোগী মুকুলই খালার হাত কেটেছেন। অথচ স্থানীয় একাধিক সূত্র, আসামির মা উম্মে কুলসুমের ভিডিও সাক্ষাৎকার এবং আসামির কন্যার জবানবন্দিতে স্পষ্ট যে, নেকবর খাঁর দায়ের কোপেই মায়ের হাত কাটা পড়েছিল এবং মুকুল গুরুতর জখম হয়েছিলেন। আদালতও এ সত্যতা নিশ্চিত করেই সাজা দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী মীর্জা ইশতিয়াক আহসান মুকুল সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানান, মীমাংসিত ঘটনা নিয়ে আসামিপক্ষ বারবার মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তিনি রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সুদৃষ্টি কামনা করেন। এলাকার প্রত্যক্ষ সাক্ষী, আদালতের রায় এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ অমান্য করে মিথ্যা মামলা ও হুমকির বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকার সচেতন মহল।

