ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দিতে ঘুষ বাণিজ্য: মানষ চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের কয়েকজনের দাবি, ক্ষতিপূরণের টাকা দ্রুত পেতে ক্ষেত্রভেদে ৫, ১০ এমনকি ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন চাওয়া হয়েছে।

By
IBN News
A New York-based Media Outlet under IBN Inc. We are the Favorite Choice for the Global Bengali Community, We are Committed to delivering Unbiased News &...
ফাইল ছবি: মানষ চন্দ্র দাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন এলএ শাখার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মানষ চন্দ্র দাস।

কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ক্ষতিপূরণের অর্থ পেতে ফাইল নিষ্পত্তির বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের কাছ থেকে কমিশনের নামে অর্থ দাবি করা হয়েছে। এমনকি অর্থ দিতে রাজি না হলে ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে।

ঢাকা-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোড থেকে সাতবর্গ বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন ও সংস্কারের কাজ চলছে। এ প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে এলএ কেস নম্বর ০৮-২০২১/২০২২-এর ৮ ধারার নোটিশ জারির পর কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এখনো তাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের অর্থ পাননি বলে অভিযোগ করছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের জন্য তাদের ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা অধিগ্রহণ করা হলেও ক্ষতিপূরণের অর্থ পেতে তাদের দীর্ঘদিন ধরে এলএ শাখায় ঘুরতে হচ্ছে। কাগজপত্র জমা, ফাইল প্রস্তুত ও পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও অনেকের ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে ফাইল প্রস্তুত করার পর সেটি এলএ শাখার কর্মকর্তা মানষ চন্দ্র দাসের টেবিলে দীর্ঘদিন পড়ে থাকে। একাধিকবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেও ফাইল নিষ্পত্তির বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তাঁরা।

এক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ঘোরাঘুরির পর এলএ শাখার ‘সব্বির’ নামের একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। সেখানে যোগাযোগ করলে ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে মোট অর্থের ৫ শতাংশ কমিশন দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, পরে মানষ চন্দ্র দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও একই ধরনের অর্থ প্রদানের কথা বলা হয়। ভুক্তভোগীদের কয়েকজনের দাবি, ক্ষতিপূরণের টাকা দ্রুত পেতে ক্ষেত্রভেদে ৫, ১০ এমনকি ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন চাওয়া হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, কেউ কমিশন দিতে রাজি হলে ফাইল দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। আর অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই এবং অর্থ দাবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ক্ষতিপূরণের মতো প্রাপ্য অর্থ পেতে তাদের বারবার এলএ শাখায় যেতে হচ্ছে। দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও অনেকে কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাচ্ছেন না। এতে একদিকে যেমন সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে অধিগ্রহণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে।

কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, মানষ চন্দ্র দাস দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের ফাইল নিয়ে হয়রানি বেড়েছে।

Share This Article
Follow:
A New York-based Media Outlet under IBN Inc. We are the Favorite Choice for the Global Bengali Community, We are Committed to delivering Unbiased News & an Accurate Portrayal of Global Events.
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version