যশোরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি ও চাঁদা দাবি: বিতর্কিত ডা. রাফসান জানি ও এনসিপি নেতা জিয়াদের বিরুদ্ধে মামলা

মামলার বাদী হাসিবুর রহমান শামীম ধর্ষণ সংবাদ প্রকাশের জেরে যশোরের ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলার প্রতিবাদে ফেসবুকে পোস্ট দেন। এর জেরে ১৭ এপ্রিল রাতে অভিযুক্তরা তার বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ করে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। অস্বীকার করায় তাকে বেধড়ক মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামীরা পালিয়ে যায়।

By
IBN News
A New York-based Media Outlet under IBN Inc. We are the Favorite Choice for the Global Bengali Community, We are Committed to delivering Unbiased News &...
ছবি: বিতর্কিত ডা. রাফসান জানি ও এনসিপি নেতা জিয়াদ

​যশোর প্রতিনিধি: ​যশোরে এশিয়ান টিভির জেলা প্রতিনিধি হাসিবুর রহমান শামীমকে মারধর, চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জেলা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

​আসামিরা হলেন, বিতর্কিত এনসিপি নেতা ও বাঘারপাড়া উপজেলার যাদবপুর গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে এম জিহাদ আলী। ও মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ও সদর উপজেলার ঘুরুলিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রাফসান জানি।

​উল্লেখ্য, ডা. রাফসান জানির বিরুদ্ধে তার নিজ শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানা, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও সর্বশেষ মণিরামপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রয়েছে। এই ধর্ষণের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই আসামীরা সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল।

​মামলার বাদী হাসিবুর রহমান শামীম অভিযোগ করেন, ধর্ষণের ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করায় অভিযুক্তরা যশোরের ১০ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করে। এর প্রতিবাদে শামীম তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়ে লেখেন— মিথ্যা মামলা দিয়ে সত্যকে চাপা দেওয়া যায় না। ধর্ষকের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি, দাঁড়িয়েই থাকবো, বিবেক বিক্রি নয়।

​এই পোস্টের জেরে গত ১৭ এপ্রিল রাতে অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলযোগে সাংবাদিক শামীমের বাড়ির সামনে গিয়ে তাকে গালিগালাজ করে। তিনি বাইরে বের হলে আসামীরা তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং হাত কেটে নেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পলাতক ডা. রাফসান ​ধর্ষণ মামলার বিষয়ে চাঞ্চল্যকর আরও কিছু তথ্য সামনে এসেছে।

​তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ডা. রাফসানের শ্যালিকা ইতোমধ্যেই যশোর আদালতে এই ধর্ষণকাণ্ডে জবানবন্দী দিয়েছেন এবং তার মেডিকেল টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে।

​শ্যালিকা ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই ডা. রাফসান জানি কোনো ছুটি না নিয়েই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

​মণিরামপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের মামলা হওয়ার পর থেকেই এই চিকিৎসক পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলার যে অপচেষ্টা আসামীরা চালাচ্ছে, তা এখন আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে। সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।

Share This Article
Follow:
A New York-based Media Outlet under IBN Inc. We are the Favorite Choice for the Global Bengali Community, We are Committed to delivering Unbiased News & an Accurate Portrayal of Global Events.
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version