ড. লুৎফুল কবিরের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি ও ন্যায়বিচারের আকুতি

আজ, তাঁর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা শুধু শোক প্রকাশ করছি না; আমরা ন্যায়বিচারেরও আবেদন জানাচ্ছি। আমরা সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস, প্রশাসন ও রাষ্ট্রের কাছে আহ্বান জানাই—ড. লুৎফুল কবিরের নাম, তাঁর অবদান এবং তাঁর পরিবারের ন্যায্য অধিকার যেন কোনো জালিয়াত চক্র, কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা কোনো প্রশাসনিক ব্যর্থতার কাছে পরাজিত না হয়।

By
IBN News
A New York-based Media Outlet under IBN Inc. We are the Favorite Choice for the Global Bengali Community, We are Committed to delivering Unbiased News &...

 

শাহরিয়ার আহমেদ রঞ্জু: আজ আমার নানা, প্রখ্যাত আইনবিদ, শিক্ষাবিদ ও আইনগ্রন্থের রচয়িতা ড. লুৎফুল কবির সাহেবের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী। গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করছি। মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করি—তিনি যেন মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন। আমীন।

ড. লুৎফুল কবির ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে দেশের আইনশাস্ত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন। ল্যান্ড ল, রোমান ল ও মুসলিম ল-সহ তাঁর রচিত অসংখ্য গ্রন্থ আজও বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে স্থান করে নিয়েছে। অথচ ফেনীর ছাগলনাইয়ার উত্তর বল্লভপুরের এই কৃতী সন্তানকে তাঁর নিজের জন্মভূমিতেই আজ অনেকেই চেনেন না। এ যেন জাতি হিসেবে আমাদের এক বড় ব্যর্থতা।

সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতি, ভুয়া দলিল, ভুয়া নথি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। তাঁর উত্তরাধিকারীরা ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে গিয়ে বারবার হয়রানি, মামলা-মোকদ্দমা ও নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও কষ্টের বিষয়, সংশ্লিষ্ট ভূমি প্রশাসন ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কাছে বারবার অভিযোগ ও তথ্য উপস্থাপন করা হলেও, পরিবার মনে করে যে কার্যকর ও দৃশ্যমান প্রতিকার তারা পায়নি। যদি সত্যিই কোনো জালিয়াতি সংঘটিত হয়ে থাকে, তবে তা উদঘাটন করা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নীরবতা কিংবা উদাসীনতা সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা দুর্বল করে।
যিনি বাংলাদেশের ভূমি আইন নিয়ে অসামান্য অবদান রেখেছেন, তাঁর নিজের পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে যদি বছরের পর বছর বিতর্ক ও অভিযোগ চলতে থাকে, তবে তা শুধু একটি পরিবারের নয়—এটি আমাদের প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতিও একটি বড় প্রশ্ন।

আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে জোরালো আহ্বান জানাই—সমস্ত অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক, প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক এবং কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একজন প্রয়াত আইনবিদের স্মৃতির প্রতি প্রকৃত সম্মান হবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।

ড. লুৎফুল কবির শুধু একজন ব্যক্তি নন; তিনি ছিলেন জ্ঞান, সততা ও ন্যায়বোধের প্রতীক। তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা তখনই অর্থবহ হবে, যখন সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

মহান আল্লাহ তাআলা মরহুম ড. লুৎফুল কবির সাহেবকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমীন।

কিন্তু ইতিহাসের কী নির্মম পরিহাস!
যে মানুষটি সারা জীবন বাংলাদেশের ভূমি আইন, সম্পত্তি আইন ও ন্যায়বিচারের ভিত্তি শক্তিশালী করতে কলম ধরেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পর আজ তাঁরই উত্তরাধিকারীরা নিজেদের বৈধ সম্পত্তির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

পরিবারের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী জালিয়াত চক্র ভুয়া দলিল, জাল নথি, ভুয়া ডিগ্রি ও বিভিন্ন প্রতারণামূলক কাগজপত্র ব্যবহার করে তাঁর সম্পত্তির রেকর্ড পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে এবং বছরের পর বছর সেই অবৈধ সুবিধা ভোগ করছে। আরও অভিযোগ রয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট ভূমি প্রশাসন ও কিছু সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিষ্ক্রিয়তা কিংবা অনিয়মের কারণেই এসব অভিযোগের কার্যকর প্রতিকার দীর্ঘদিন ধরে পাওয়া যায়নি।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, ড. লুৎফুল কবিরের জ্যেষ্ঠ পুত্র ইকরামুল কবির আজও একাধিক ফৌজদারি মামলার আসামি হিসেবে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন। পরিবারের দাবি, এসব মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা, হয়রানিমূলক এবং প্রকৃত সত্যকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে। সত্য উদঘাটনের স্বার্থে বিভিন্ন সময়ে র‌্যাব, সিআইডি, ডিবিসহ একাধিক সংস্থার তদন্তের প্রয়োজন হয়েছে। একজন প্রয়াত আইনবিদের পরিবারের জন্য এর চেয়ে বড় বেদনা আর কী হতে পারে?
আজ প্রশ্ন জাগে—যে মানুষটি দেশের আইনকে শক্তিশালী করেছিলেন, তাঁর নিজের পরিবার কি আইনের সুরক্ষা পাবে না? যারা তাঁর অবদান স্মরণ করে ফুল দেয়, শোকবার্তা দেয়, তারা কি কখনো তাঁর পরিবারের প্রতি ঘটে যাওয়া অভিযোগগুলোর ন্যায্য তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছে?

আজ, তাঁর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা শুধু শোক প্রকাশ করছি না; আমরা ন্যায়বিচারেরও আবেদন জানাচ্ছি। আমরা সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস, প্রশাসন ও রাষ্ট্রের কাছে আহ্বান জানাই—ড. লুৎফুল কবিরের নাম, তাঁর অবদান এবং তাঁর পরিবারের ন্যায্য অধিকার যেন কোনো জালিয়াত চক্র, কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা কোনো প্রশাসনিক ব্যর্থতার কাছে পরাজিত না হয়।
“কি বিচিত্র এই সেলুকাস!”—এই দীর্ঘশ্বাস যেন আর কোনো সৎ মানুষের পরিবারের ভাগ্যে লেখা না থাকে।

Share This Article
Follow:
A New York-based Media Outlet under IBN Inc. We are the Favorite Choice for the Global Bengali Community, We are Committed to delivering Unbiased News & an Accurate Portrayal of Global Events.
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version