উত্তর রাখাইনে মানবিক বিপর্যয়ে রোহিঙ্গা: আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে গণহত্যার আন্তর্জাতিক অভিযোগ জোরালো

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানায়, আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত উত্তর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চরম দমনমূলক নীতি চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চলাচলের কঠোর নিষেধাজ্ঞা, জোরপূর্বক শ্রম, স্বেচ্ছাচারী আটক, নির্যাতন, গ্রাম পোড়ানো, যৌন সহিংসতা এবং মানবিক সাহায্যে বাধা দেওয়া।

By
IBN News
A New York-based Media Outlet under IBN Inc. We are the Favorite Choice for the Global Bengali Community, We are Committed to delivering Unbiased News &...

মীর দিনার হোসেন: মিয়ানমারের উত্তর রাখাইন (আরাকান) অঞ্চলে আরাকান আর্মি (এএ)-এর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যামূলক কৌশল প্রয়োগের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থা ফর্টিফাই রাইটসের এক তদন্তে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২ মে বুথিডং টাউনশিপের হোয়ার সিরি (হতান শাউক খান) গ্রামে আরাকান আর্মির সৈন্যরা রোহিঙ্গা বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে। সংস্থাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-কে এই ঘটনা অনুসন্ধানে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানায়, আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত উত্তর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চরম দমনমূলক নীতি চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চলাচলের কঠোর নিষেধাজ্ঞা, জোরপূর্বক শ্রম, স্বেচ্ছাচারী আটক, নির্যাতন, গ্রাম পোড়ানো, যৌন সহিংসতা এবং মানবিক সাহায্যে বাধা দেওয়া। রোহিঙ্গারা জীবিকা ও চলাচলে চরম সীমাবদ্ধতার শিকার হয়ে আটকা পড়েছেন। অনেক এলাকায় খাদ্য, ওষুধ ও সাহায্য পৌঁছাতে পারছে না, ফলে অনাহার ও রোগের ঝুঁকি বেড়েছে।

ইউকে সরকারের দেশ তথ্য নোট (জানুয়ারি ২০২৬) ও ইউএন অফিস অব দ্য হাই কমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস (ওএইচসিএইচআর)-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এএ রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে নিয়োগ, মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার, নির্যাতন ও অদৃশ্য করে ফেলার ঘটনা ঘটাচ্ছে। উত্তর রাখাইনের মাউংডাউ ও বুথিডংয়ে রোহিঙ্গারা খাদ্যাভাব, চিকিৎসা ও শিক্ষার অভাবে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। ২০২৪-২০২৫ সালে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে গেছেন।

আরাকান আর্মি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা শুধু জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই ধরনের অপরাধ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যে উত্তর রাখাইনের মানবিক পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সাহায্যের দাবি উঠেছে।

 

সূত্র: ফর্টিফাই রাইটস (এপ্রিল ২০২৬), হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (জুলাই ২০২৫), ইউকে হোম অফিস কান্ট্রি পলিসি নোট (জানুয়ারি ২০২৬) এবং ইউএন ওএইচসিএইচআর প্রতিবেদন।

Share This Article
Follow:
A New York-based Media Outlet under IBN Inc. We are the Favorite Choice for the Global Bengali Community, We are Committed to delivering Unbiased News & an Accurate Portrayal of Global Events.
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version