আইবিএন রিপোর্ট: ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার ও বিশিষ্ট সাংবাদিক গোলাম মোর্তজার সাথে প্রবাসীদের এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্টে গত শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রবাসী কমিউনিটির উদ্যোগে এই মতবিনিময় সভা হয়। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ সোহেল ও রাসিক মালিকর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাজনীতি এবং দূতাবাসের সেবা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা বলেন, “দূতাবাস ও কনস্যুলেট বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো সেবা প্রদান করছে। প্রবাসীদের যেকোনো অভিযোগ পেলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করি।”
তিনি আরও বলেন, সংবাদকর্মীরা যেকোনো সময় তাঁকে কল করে তথ্য যাচাই করতে পারেন। তিনি সঠিক তথ্য সরবরাহে যথাসাধ্য চেষ্টা করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আগে দূতাবাসের ফ্রন্ট ডেস্কের এক স্টাফের ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ ছিল। তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দূতাবাসের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে টেলিফোন সেবার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “প্রবাসীরা টেলিফোন করে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন। বাস্তবে আমরা প্রতি মিনিটে গড়ে ৪টি কল পাই, যা একসাথে হ্যান্ডেল করা কঠিন। তবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এর উন্নতির চেষ্টা চলছে।”
ভারতীয় মিডিয়ার নেতিবাচক প্রচারণার বিষয়ে তিনি বলেন, এর প্রভাব স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও মূলধারার রাজনীতিবিদদের মধ্যে পড়ছে। একজন প্রেস মিনিস্টার হিসেবে এসবের মোকাবিলা করতে হয় তাঁকে।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন: মিজান চৌধুরী — মূলধারার রাজনীতিবিদ ও আইটি বিশেষজ্ঞ, আমির হোসেন কামাল — নিউইয়র্ক নিউ হরাইজন লায়নস ক্লাবের ডিরেক্টর ও সমাজসেবক, সিনিয়র সাংবাদিক লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকন — নিউইয়র্ক নিউ হরাইজন লায়নস ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাপসনিউজ এডিটর ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিন, মনোয়ারুল ইসলাম — নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও বিশিষ্ট সাংবাদিক, জে মোল্লা সানী — কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট ও নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি প্রাইমারি নির্বাচনের প্রার্থী, ইমতিয়াজ চৌধুরী, মোস্তাফিজ চৌধুরী, ডা. আমানুল্লাহ, আফরোজা ইসলাম — ‘নিউইয়র্ক কাগজ’ সম্পাদক, দেলোয়ার মানিক — ক্লিন্টন ডেমোক্রেটিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, মোস্তাকিম আবেদ, সৌরভ ইমাম ছাড়া আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণআন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আয়োজক সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ সোহেল উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং রকমারি আয়োজনে দুপুরের ভোজে আপ্যায়ন করেন।
