“নন-বেইলঅ্যাবল সেকশনে সোনালি কলঙ্ক”: সেহলী পারভীনের আত্মজীবনীমূলক প্রতিবাদ

সেহলী পারভীন সরকারি-বেসরকারি চাকরি ছেড়ে, লোভনীয় ব্যবসার প্রস্তাব উপেক্ষা করে জীবনের সোনালি সময় এবং শেষ সম্পদ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ব্যয় করেছেন।

By
IBN News
A New York-based Media Outlet under IBN Inc. We are the Favorite Choice for the Global Bengali Community, We are Committed to delivering Unbiased News &...
ছবি: বাংলাদেশের বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও হিউম্যান এইড ইন্টারন্যাশনাল এর প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব সেহলী পারভীন।

মীর দিনার হোসেন: “নন-বেইলঅ্যাবল সেকশনে সোনালি কলঙ্ক” নিজের আত্মজীবনীমূলক কর্মকাণ্ডকে এভাবেই তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী সেহলী পারভীন। একটি আবেগঘন ও সমালোচনামূলক লেখায় নিজের জীবনের ত্যাগ, সংগ্রাম এবং বর্তমান মানবাধিকার আন্দোলনের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এই মানবাধিকার কর্মী।

সেহলী পারভীন সরকারি-বেসরকারি চাকরি ছেড়ে, লোভনীয় ব্যবসার প্রস্তাব উপেক্ষা করে জীবনের সোনালি সময় এবং শেষ সম্পদ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ব্যয় করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেছেন, কোনো ধরনের বিদেশি ফান্ড (ডোমেস্টিক বা অ্যাবরোড) গ্রহণ করেননি, রাজনৈতিক অনুদান অগ্রাহ্য করেছেন এবং স্বাধীনতা হারানোর ভয়ে তৃণমূলের আবেদনকারীদের কণ্ঠস্বর গেঁথে নেওয়ার মতো কোনো কাজ করেননি। তিনি বলেন, “কার জন্য কী করেছি” এমন প্রশ্ন তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো শিক্ষিত সমাজ, পণ্ডিত ব্যক্তি, মানবাধিকার সংগঠন এবং এমনকি আইনজীবীরাও মানবাধিকারের প্রকৃত অর্থ বোঝেন না।

সেহলী পারভীনের মতে, মানবাধিকার হলো মানুষসহ জীবজগৎ ও প্রকৃতির সকল শাখা-প্রশাখার ধর্ম, অধিকার, মুক্তি, স্বাধীনতা, সমাজ-সংস্কৃতির শ্বাশ্বত সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্য রক্ষার জন্য গবেষণামূলক সোচ্চার প্রতিফলন – যা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সরল নীতিমালায় প্রকাশিত। তিনি এটিকে মানবজীবনের সর্বোবৃহৎ দর্শন বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি সমালোচনা করেছেন যে, অনেক সংগঠন শীতবস্ত্র, চাল-ডাল, সেলাই মেশিন বা ঈদ সামগ্রী বিতরণকে মানবাধিকার কার্যক্রম বলে প্রচার করে, যা আসলে দাতব্য কাজ। একইভাবে নারীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা (লিগ্যাল এইড) দেওয়াকে মানবাধিকারের দায়িত্ব মনে করা হয়, কিন্তু আদালতের লিগ্যাল এইড শাখা নিপীড়িতদের জন্য যথেষ্ট সচল নয়। উচ্চবিত্তরা আইনকে শাসন করে বলে লিগ্যাল এইড কার্যকর নয়।

তিনি বলেন, “বিনামূল্যে” শব্দটি ছড়িয়ে মানবাধিকারকে দাতব্য প্রতিষ্ঠানের কাল্পনিক আদলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সংগঠনগুলো অর্থ ছাপাতে হয় বলেই সততা আশা করা যায় না। প্রকৃত মানবাধিকার কাজ হলো চৌকস অধিকার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ন্যায় আদায় করা, যাতে আর্থিক সহযোগিতা আশা করা যায় না।

শেষে তিনি লিখেছেন যে, জীবনের সকল আনন্দ-অনুভূতি অপরের জন্য ব্যয় করে তিনি “কলঙ্ক” নিয়েছেন – যা জামিনযোগ্য নয় (নন-বেইলঅ্যাবল সেকশন)। এটি তার ত্যাগের প্রতীকী স্বীকারোক্তি।

সেহলী পারভীনের আত্মজীবনীমূলক লেখায় মানবাধিকার কর্মকাণ্ডের প্রকৃতি, সংগঠনগুলোর উদ্দেশ্য এবং ব্যক্তিগত ত্যাগের গভীর চিন্তাভাবনা উপস্থাপন করে। সেহলী পারভীনের এই বক্তব্য দেশের মানবাধিকার আন্দোলনে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

Share This Article
Follow:
A New York-based Media Outlet under IBN Inc. We are the Favorite Choice for the Global Bengali Community, We are Committed to delivering Unbiased News & an Accurate Portrayal of Global Events.
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version