এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ: নারায়ণগঞ্জকে অপরাধমুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা পুলিশ প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক মাসের মধ্যেই চৌকস ও দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সর্বমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএম-সেবা।
দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও সাইবার অপরাধসহ সকল প্রকার অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে সফল অভিযান পরিচালনা করে আসছেন তিনি। তাঁর এই বলিষ্ঠ নেতৃত্বে জেলার ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরে এসেছে। বিভিন্ন মহল থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি একান্ত সাক্ষাৎকারে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন পুলিশ সুপার।
এসপি হাবিবুর রহমান বলেন, “নারায়ণগঞ্জ একটি বৃহৎ শিল্পাঞ্চল। দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরির সুবাদে বসবাস করেন। ফলে বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠী এবং অপরাধের ধরনও ভিন্ন। আমি এই বৈচিত্র্যকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি এবং দীর্ঘদিনের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বের কারণে নারায়ণগঞ্জ অত্যন্ত স্পর্শকাতর জেলা। এখানে প্রায় এক কোটি মানুষের বসবাস। সীমিত সংখ্যক পুলিশ সদস্য দিয়ে এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিরাপত্তা প্রদান অত্যন্ত কঠিন। রাজধানী সংলগ্ন হওয়ায় অপরাধীরা অপরাধ করে সহজেই ঢাকায় গিয়ে আত্মগোপন করে। এছাড়া সময়ের সঙ্গে সাইবার ক্রাইমসহ প্রযুক্তিভিত্তিক অপরাধের নতুন ধরন যুক্ত হচ্ছে। প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও বিশেষায়িত জনবলের কিছুটা ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও বিদ্যমান লজিস্টিক সাপোর্ট ও কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
কিশোর গ্যাং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কিশোর গ্যাং কালচারের জন্য শুধু কিশোরদের দায়ী করলে চলবে না। পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, উপযুক্ত পরিবেশের অভাব এবং বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির কারণেও তারা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। আমরা ইতোমধ্যে স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করেছি। সন্ধ্যার পর চায়ের দোকান ও আড্ডার স্থানগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। খুব শিগগিরই কিশোরদের সুপথে ফেরাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা চলমান রয়েছে।”
পুলিশ সুপার বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে—পুলিশের প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের পেশাদার কর্মকর্তা এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করতে হবে। বর্তমান সরকার পুলিশকে সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে স্বাধীনভাবে কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
মাদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জে মাদক তৈরি হয় না। এর প্রায় পুরোটাই বিভিন্ন জেলা ও সীমান্ত পেরিয়ে বাইরে থেকে আসে। তাই মাদকের চেইন ভাঙতে হলে সীমান্তে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। আমরা জেলার ভেতরে গার্মেন্টস ও ঘনবসতিপূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রেখেছি।”
নিজের লক্ষ্য তুলে ধরে এসপি হাবিবুর রহমান বলেন, “আমার লক্ষ্য একটাই—মানুষ নিশ্চিন্তে রাস্তা দিয়ে চলাচল করবে, ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা করবে এবং রাতে শান্তিতে ঘুমাবে। এমন একটি জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলাই জেলা পুলিশের মূল লক্ষ্য। অপরাধমুক্ত, শান্তিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ গড়তে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

