মীর দিনার হোসেন: বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে অবহেলা ও টিকা সংকটের কারণে শত শত শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গাবুয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সতর্ক করেছিলাম। তারা ইউনিসেফকে বাদ দিয়ে নতুন পদ্ধতিতে টিকা কেনার সিদ্ধান্তের কারণেই এই জটিলতা ও সংকটের সৃষ্টি হয়েছিল এবং টিকা সরবরাহ বিঘ্ন হয়েছিল।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, চলতি বছর মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে ৩০০ থেকে ৩৪৩ জনেরও বেশি শিশু মারা গেছে। কিছু প্রতিবেদনে মোট মৃত্যু ৩৩৬-এর বেশি উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই পাঁচ বছরের নিচের শিশু, যাদের অনেকে টিকা পায়নি। লক্ষাধিক সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত কেস শনাক্ত হয়েছে, যা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৪-২৫ সালে টিকার স্টকআউট, রুটিন ইমিউনাইজেশনের ঘাটতি এবং ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় টিকা কেনাকাটায় বিলম্ব ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা এই সংকটকে তীব্র করেছে। ইউনিসেফের সতর্কতা সত্ত্বেও নতুন পদ্ধতি অনুসরণ করে টিকা সরবরাহ ব্যাহত হয়। ফলে হার্ড ইমিউনিটির জন্য প্রয়োজনীয় ৯৫% টিকাদানের লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হয়নি।
ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়া, জরুরি টিকাদান কর্মসূচি এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামো জোরদার করার উদ্যোগের ফলে বড় বিপর্যয় অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হয়েছে। সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করে অবহেলার দায় নির্ণয়েরও প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে যদি না দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এই ট্র্যাজেডি শুধু স্বাস্থ্যখাতের ব্যর্থতা নয়, শিশু অধিকারের চরম লঙ্ঘন। অবিলম্বে টিকাদান, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করা জরুরি যাতে এমন প্রাদুর্ভাব আর না ঘটে।

