রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দাবিতে ৪৪ রাউন্ড গুলি: আজ ২৭ এপ্রিল ‘কালো দিবস’

আজ ২৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক 'কালো দিবস' হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের কক্সবাজার ও বান্দরবন জেলার রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায়।   ১৯৯৩ সালের এই দিনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দাবিতে রাজপথে নামা নিরীহ ও নিরস্ত্র স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর ৪৪ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়।

IBN-News-Logo-Blue
By
IBN News
WE Are love for news
ছবি: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দাবীতে ১৯৯৩ সালের ২৭ এপ্রিল পুলিশের ৪৪ রাউন্ড গুলি ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও আঞ্চলিক মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ।

আইবিএন রিপোর্ট: আজ ২৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক ‘কালো দিবস’ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের কক্সবাজার ও বান্দরবন জেলার রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায়।

১৯৯৩ সালের এই দিনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দাবিতে রাজপথে নামা নিরীহ ও নিরস্ত্র স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর ৪৪ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়। রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়, বেধড়ক লাঠিপেটা ও পরবর্তীতে হামলা-মামলার ঘটনা ঘটে। অনেক স্থানীয় বাসিন্দা এই আন্দোলনের কারণে ‘নিজভূমিতে পরবাসী’ হয়ে পড়েন।

কী দাবিতে রাজপথে ছিলেন তারা?

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ইকরামুল কবির চৌধুরী বাবলু বলেন, তারা সেদিন মূলত স্থানীয়দের ভূমি, বনাঞ্চল, পরিবেশ ও জীবিকার অধিকার রক্ষার দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন।

তিনি বলেন, “আমরা বলেছিলাম— আমাদের দেশের বন অঞ্চল উজাড় হয়ে যাচ্ছে, পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, নাফ নদী তাদের দখলে চলে যাচ্ছে, দিনমজুরির কাজ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

৩৩ বছর পর আজকের বাস্তবতা প্রসঙ্গে ইকরামুল কবির বাবলু আক্ষেপ করে বলেন, ১৯৯৩ সালে যেসব বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল, আজ ২০২৫-২৬ সালে এসেও তা আরও প্রকট হয়েছে। তিনি বলেন: “যে জাতি নিজে চেষ্টা করে না, তাকে সাহায্য করতে যেও না। যে জাতি ভাবে অন্যরা তাদের খাইয়ে দেবে, তাদের সাথে আমাদের আগামী প্রজন্মকে মিশতে দিও না। আমরা বীরের জাতি, প্রজন্মের সাহস কমে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের বুকে-পিঠে জায়গা দেওয়া হয়েছে, বাইরের দুনিয়া থেকে ভিক্ষা এনে খাওয়ানো হয়েছে, কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। উল্টো সন্ত্রাসবাদ, খুন, গুম, ধর্ষণ, মানবপাচার, অপহরণসহ নানা অপরাধ বেড়েছে এবং দেশের পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে।

সাংস্কৃতিক ও জাতিগত পরিচয়ের প্রশ্নে ইকরামুল কবির বাবলু বলেন, “সারা পৃথিবীতে ৪০ কোটির অধিক বাঙালি রয়েছে। আমাদের সবার সংস্কৃতি এক— বাঙালি সংস্কৃতি। আমরা হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান মিলে বাঙালি পরিচয়। কিন্তু রোহিঙ্গাদের পরিচয় শুধু ‘রোহিঙ্গা মুসলমান’— একক জাতি নিয়ে। তারা আমাদের মতো বাঙালি নয়।” তিনি মনে করেন ‘রোহিঙ্গা মুসলমান’ ট্যাগ এর কারণে আজ তারা বিচ্ছিন্ন। তারা নির্যাতিত রোহিঙ্গা যা মুসলিম ট্যাগ এর কারণে তাদের সমস্যা আজও উপেক্ষিত।

তিনি আগামী প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, “আমি চলে যাবো, তোমরা আগামীর জন্য বেঁচে থাকবে। দেশকে ভালোবাসবে, দেশের মানুষকে ভালোবাসবে।”

Share This Article
Follow:
WE Are love for news
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version