বাংলাদেশে বার নির্বাচনে বাঁধার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইউরোপীয় বার কাউন্সিলের উদ্বেগ প্রকাশ

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা আইনজীবী সমিতি এবং সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে অনিয়ম, বাধা ও হয়রানির অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপের বার ও আইন সমিতিগুলোর শীর্ষ সংগঠন কাউন্সিল অব বারস অ্যান্ড ল’ সোসাইটিজ অব ইউরোপ (সিসিবিই)।

IBN-News-Logo-Blue
By
IBN News
WE Are love for news

হাকিকুল ইসলাম খোকন: বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা আইনজীবী সমিতি এবং সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে অনিয়ম, বাঁধা ও হয়রানির অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপের বার ও আইন সমিতিগুলোর শীর্ষ সংগঠন কাউন্সিল অব বারস অ্যান্ড ল’ সোসাইটিজ অব ইউরোপ (সিসিবিই)।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংস্থাটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠায়। সিসিবিই’র সভাপতি রোমান জাভরশেক স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, ফ্রান্সভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘জাস্টিস মেকারস বাংলাদেশ’ (জেএমবিএফ) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলা বার ও সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে আইনজীবীদের অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাঁধা দেওয়া হয়েছে, অনেককে শারীরিকভাবে হয়রানি করা হয়েছে এবং ‘ফ্যাসিস্টদের সহযোগী’ আখ্যা দিয়ে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও তুলে ধরা হয়।

চিঠিতে জাতিসংঘের “আইনজীবীদের ভূমিকা সম্পর্কিত মৌলিক নীতিমালা”-এর ১৬, ১৭, ১৮ ও ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়—

রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের জন্য ভয়ভীতিমুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরি করা। আইনজীবীদের মতপ্রকাশ ও সংগঠন করার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকতে হবে। পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো আইনজীবীকে তার মক্কেল বা রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে একীভূত করে দেখা যাবে না।

সিসিবিই আরও জানায়, সম্প্রতি ইউরোপীয় কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত ‘আইনজীবী পেশার সুরক্ষা সংক্রান্ত কনভেনশন’ দ্রুত স্বাক্ষর ও অনুসমর্থনের জন্য বাংলাদেশকে আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটির মতে, এই কনভেনশন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চিঠির শেষাংশে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি তিনটি প্রধান আহ্বান জানানো হয়—

প্রথমত, বার নির্বাচনে সকল আইনজীবীর সমান ও বৈষম্যহীন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, নির্বাচনী অনিয়ম, বাধা প্রদান ও সহিংসতার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।

তৃতীয়ত, আইনজীবীরা যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, ব্রাসেলসভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটি ইউরোপের ৪৬টি দেশের বার সমিতির প্রতিনিধিত্ব করে এবং বিশ্বব্যাপী ঝুঁকিতে থাকা আইনজীবীদের সুরক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশাপাশি চিঠিটির অনুলিপি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।

Share This Article
Follow:
WE Are love for news
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version