পুশ-ইনের চাপে সীমান্তে মানবিক সংকট, দুই দেশের টানাপোড়েনে অসহায় শত শত মানুষ

রোদ, বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে দিন কাটছে সীমান্তে আটকে পড়াদের; বৈধ প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না বিজিবি।

IBN-News-Logo-Blue
By
IBN News
WE Are love for news

আসিফ সেতু: সীমান্তজুড়ে চলমান ‘পুশ-ইন’ ইস্যু নতুন করে মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে। ভারতের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বাংলাদেশি দাবি করে অনেক মানুষকে সীমান্তের দিকে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় সীমান্তের জিরো লাইনে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অসংখ্য মানুষকে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে হচ্ছে। রোদ, বৃষ্টি ও ঝড়—সবকিছুর মধ্যেই অনিশ্চয়তার জীবন পার করছেন তারা।

সীমান্ত সূত্রগুলো বলছে, পশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের অধীনে অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বেড়েছে। একই সময়ে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ‘পুশ-ইন’ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও সামনে এসেছে।

বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট। সরকার ও বিজিবি বলছে, আন্তর্জাতিক নিয়ম ও দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাই করা হলে বাংলাদেশ নিজ নাগরিকদের গ্রহণ করবে। তবে বেআইনি উপায়ে কাউকে সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এ কারণে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং একাধিক ‘পুশ-ইন’ প্রচেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করেছে।

অন্যদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা নিজ দেশের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে এ বিষয়ে দুই দেশের অবস্থানে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী বাহিনীগুলোর কড়াকড়ির মাঝখানে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অনেক ক্ষেত্রে নারী ও শিশুদের দীর্ঘ সময় জিরো লাইনে অবস্থান করতে দেখা গেছে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, যে কোনো দেশের নাগরিক হোক না কেন, তাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের কাঁটাতারের দুই পাশে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনা চললেও মাঝখানে আটকে থাকা মানুষগুলোর কষ্ট যেন কেউ দেখছে না। তাদের অনেকেই ক্লান্ত, অসুস্থ এবং চরম অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের উচিত বিষয়টি নিয়ে আরও কার্যকর সমন্বয় ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চালু করা, যাতে সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি কোনো নিরীহ মানুষ মানবিক বিপর্যয়ের শিকার না হন।

Share This Article
Follow:
WE Are love for news
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version