মীর দিনার হোসেন, আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রধান: নিউইয়র্ক, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধীদের বিচার এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নওশাদ জমির। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ষষ্ঠ কমিটিতে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
নওশাদ জমির বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত সনদে তিনটি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখা উচিত। এগুলো হলো—অপরাধের আলামত সংরক্ষণ ও সাক্ষীদের সুরক্ষায় সহযোগিতা, ভুক্তভোগীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর দায়িত্ব ভাগাভাগিতে আন্তর্জাতিক সংহতি জোরদার করা।
মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক কাঠামোতে ভুক্তভোগীদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে নওশাদ জমির বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনে ওই সময়ে শিশুসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানির তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কি না, তা নির্ধারণে ফৌজদারি তদন্তের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যাতে কোনো দেশে নিরাপদ আশ্রয় না পান, সে জন্য সর্বজনীন বিচারিক এখতিয়ার প্রতিষ্ঠা, অপরাধীদের প্রত্যর্পণ এবং আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন নওশাদ জমির।
আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নে আপসের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, “সবাইকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে সনদকে দুর্বল করা হলে তা শেষ পর্যন্ত কাউকেই সুরক্ষা দিতে পারবে না।”
