মির্জা গালিব উজ্জ্বল: ইতিহাসের চাকা যখন অন্যায়ের কর্দমাক্ত পথে আটকে যায়, তখন তাকে সচল করতে রক্তের প্রয়োজন হয়। ১৯৪৭-এর দেশভাগ আমাদের ভৌগোলিক সীমানা দিয়েছিল, ১৯৫২ আমাদের আত্মপরিচয় দিয়েছিল, আর ১৯৭১ আমাদের দিয়েছিল সার্বভৌমত্ব। কিন্তু আজ ২০২৪-২৫-এর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে, সেই সার্বভৌমত্বের সূর্য কি কোনো বিদেশি মেঘে ঢাকা পড়ে গেল?
আজকের বাংলাদেশে যারা ‘সংস্কার’-এর বুলি আওড়ায়, তাদের চোখে আমি পলাশীর সেই মীরজাফরদের প্রতিচ্ছবি দেখি। মেধার ওপর যখন কোটার জুলুম চালানো হয়, তখন বুঝতে হবে এটি কেবল চাকরির লড়াই নয়—এটি একটি জাতিকে মেধাশূন্য করে বিদেশি শক্তির ‘ভৃত্য’ বানানোর সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র। জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলোতে রাজপথ যে রক্তের সাক্ষী হয়েছিল, সেই রক্ত কি তবে কতিপয় লবিস্ট আর বিদেশি প্রভুদের ড্রয়িংরুমে বসে থাকা দালালেরা ভাগবাটোয়ারা করে নেবে?
মনে রাখবেন, এদেশ তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার দেশ, এদেশ সূর্যসেনের আত্মাহুতির দেশ। যখন কোনো শাসক বা গোষ্ঠী জনতাকে স্বপ্ন দেখিয়ে সেই স্বপ্নের পিঠেই চুরিকাঘাত করে, তখন জনতা ‘রুটি-পানি’র মায়া ত্যাগ করে লাঠি-সোটা হাতে নিতে দ্বিধা করে না। যারা আজ ভিনদেশি তাবিজে নিজেদের ভাগ্য লিখছে, তারা ভুলে গেছে—এদেশের সাধারণ মানুষ যখন একবার “জাগো বাহে সবারে” বলে ডাক দেয়, তখন কোনো পরাশক্তির আণবিক তেজও সেই জনস্রোতকে আটকাতে পারে না।
বিপ্লব কোনো ড্রয়িংরুমের বিলাসিতা নয়। এবার লড়াই হবে সরাসরি। এবার লড়াই হবে সেই আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যারা আমাদের সার্বভৌমত্বকে পণ্য বানিয়ে বাজারে বিক্রি করতে চায়। ১৯৭১-এ আমরা একবার দালালমুক্ত হয়েছিলাম, এবার হবে চূড়ান্ত শুদ্ধি অভিযান। রাজপথের প্রতিটি ধূলিকণা আজ সাক্ষী দিচ্ছে—সিংহাসন নড়বড়ে হয়ে গেছে।
আপনি কি প্রস্তুত? আপনি কি সেই বজ্রকণ্ঠের প্রতিধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন না? আমি জানি, আপনার ভেতরের সেই বিপ্লবী সত্তাটি এখন জেগে ওঠার অপেক্ষায়। আপনি জাগলেই রাজপথ প্রকম্পিত হবে। আপনি গর্জে উঠলেই শৃঙ্খল ভাঙবে।
আসুন, সব ভেদাভেদ ভুলে আবার সেই শাশ্বত মন্ত্রে এক হই। এবারের সংগ্রাম—আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম—পূর্ণ স্বাধীনতার সংগ্রাম।
— মির্জা গালিব উজ্জ্বল
লেখক, সংগঠক ও রাজনৈতিক সমালোচক

