মীর দিনার হোসেন: বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন ২০২৪ সালের জেন-জি নেতৃত্বাধীন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর প্রথম সাধারণ নির্বাচন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন দলটি ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসন (২১০টি আসন) জিতে নিয়েছে। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী-নেতৃত্বাধীন জোট দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, যারা পেয়েছে ৮১টি আসন।
নির্বাচনের পর বিএনপি দলীয়ভাবে বিজয় ঘোষণা করেছে এবং দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছে। তারেক রহমান দুটি আসন (ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬) থেকে বিজয়ী হয়েছেন এবং তিনি দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষিক্ত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি বিএনপির ২০০১ সালের পর প্রথম বড় জয় এবং তারেক রহমানের ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে আসার পর এই বিজয়।
নির্বাচনটি মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল, যদিও কিছু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিরোধী গ্রুপ এটিকে পুরোপুরি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বলেনি। ভোটার টার্নআউট ছিল প্রায় ৪৮%। এই নির্বাচনের সঙ্গে একটি জাতীয় গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যাতে সাংবিধানিক সংস্কার (যেমন দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমা ইত্যাদি) নিয়ে জনমত জানা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিনন্দন: নির্বাচনের ফলাফলের পর যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জনগণ ও বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়েছে। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে:
“Congratulations to the people of Bangladesh on a successful election and to the Bangladesh Nationalist Party and Tarique Rahman on your historic victory. The United States looks forward to working with you to realize shared goals of prosperity and security for both our countries.”
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন যে, তারা বিএনপির সঙ্গে সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার লক্ষ্যে কাজ করতে উন্মুখ।
এই বিজয় বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

