মীর দিনার হোসেন (ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক প্রধান, আইবিএন নিউজ): পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের লিবিয়া সফর এবং হাফতারের সঙ্গে বিশাল অস্ত্র চুক্তির মাত্র কয়েকদিন পরই লিবিয়ার সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহামেদ আল-হাদ্দাদ এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এই ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও আন্তর্জাতিক মহলে জোরালো জল্পনা শুরু হয়েছে।
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে লিবিয়া ফেরার পথে ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যায় আল-হাদ্দাদের ব্যক্তিগত জেট বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে বিধ্বস্ত হয়। এতে নিহত হন আল-হাদ্দাদসহ আরও চারজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা। লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আব্দুল হামিদ দুবেইবাহ এটিকে ‘দুঃখজনক দুর্ঘটনা’ বলে ঘোষণা করেছেন এবং তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ১৮-১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ লিবিয়া সফরে গিয়ে পূর্ব লিবিয়ার শক্তিশালী নেতা ফিল্ড মার্শাল খলিফা হাফতার এবং তার ডেপুটি লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদ্দাম হাফতারের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই সফরে ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের অস্ত্র চুক্তি সম্পন্ন হয়, যা হাফতারের লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (LNA) জন্য।
লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিভক্ত: পশ্চিমে ইউএন-স্বীকৃত ত্রিপোলি সরকার (যার সেনাপ্রধান ছিলেন আল-হাদ্দাদ) এবং পূর্বে হাফতারের নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন। আল-হাদ্দাদ হাফতারের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই চুক্তি এবং তারপর দুর্ঘটনার সময়ের কাছাকাছি হওয়ায় অনেকে ‘ষড়যন্ত্র’ সন্দেহ করছেন, যদিও অফিসিয়ালি এটিকে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বলা হচ্ছে। তদন্ত চলছে, দেখার বিষয় তদন্ত রিপোর্টে কি প্রকাশ পাচ্ছে।

